ঢাকা রবিবার, ১৮ই এপ্রিল ২০২১, ৫ই বৈশাখ ১৪২৮


‘৯৯৯’ সঞ্চালনায় প্রশংসিত আরজে এমি


প্রকাশিত:
৬ মার্চ ২০২১ ১৪:৫০

আপডেট:
৬ মার্চ ২০২১ ১৪:৫৩

দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পুলিশ সদস্যদের জরুরিভিত্তিক সেবা তৎপরতা ও দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ড নিয়ে স্পাইস এফএম আয়োজিত অনুষ্ঠান ‘৯৯৯’। আরজে এমির অসাধারণ ও ভিন্ন আঙ্গিকের উপস্থাপনার এ অনুষ্ঠান এরইমধ্যে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। সময়ের আলোচিত এ অনুষ্ঠান ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে সম্প্রতি আলাপ হয় আরজে এমির সঙ্গে।

প্রশ্ন: ইতিমধ্যে আপনার সাবলীল ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও সঞ্চালনা দর্শক ও শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। বিষয়টা নিয়ে আপনার অনুভূতি কি?

আরজে এমি: সবখানেই আমি সমান ব্যক্তিত্ব বজায় রাখি। হোক সেটা লাইভ অনুষ্ঠান, কিংবা কোন পার্টি বা আড্ডা। মানুষ আমাকে অনস্ক্রিন দেখে কিংবা শুনে পছন্দ করছে তা কিন্ত নয়, আমার কথা বলার ধরন, শৈলীটা দর্শক ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। প্রশংসা করছে। বিষয়টা নিয়ে অত্যন্ত ভালো লাগা কাজ করে আমার।

প্রশ্ন: জেনেছি, আপনি জাপানের বিনিয়োগ সংস্থা জাইক্যার প্রকল্পে কর্মরত আছেন। এরপরেও রেডিও অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা চালিয়ে যাচ্ছেন। দুই কাজ একসঙ্গে করাটা কতটা চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে?

আরজে এমি: অবশ্যই, এটা আমার কাছে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটা বিষয়। অনুষ্ঠানের আগের দিন আমাকে মেইল দেখে ঘটনাটি সম্পর্কে খুঁটিনাটি জানতে হয়, বিশ্লেষণ করতে হয়। অনুষ্ঠানের দিন আমাকে সব মিলিয়ে ১৩ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। সঙ্গে দুই-আড়াই ঘণ্টার যানজট তো আছেই। তবে মানসিক ও শারীরিকভাবে অনেক চ্যালেঞ্জ হলেও কাজটি ভালো লাগা থেকে করায় আনন্দদায়ক ও মজার লাগে আমার কাছে।

প্রশ্ন: অনুষ্ঠানের প্রতিটা পর্বেই থাকে নিত্যনতুন অতিথি। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সঙ্কট মোকাবেলা ও মানুষের বিপদ থেকে উদ্ধার তৎপরতার সেই সফল্যগাঁথা কাহিনি পুলিশ সদস্যরা নিজেদের মুখেই বর্ণনা করেন। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদের সঙ্গে কাজ করতে কেমন লাগে আপনার?

আরজে এমি: আইনশৃঙ্খলাকর্মী পর্দার আড়ালের নায়ক। জনগণের জানমাল রক্ষায় তারা সর্বাত্বক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছেন। সন্ত্রাস নির্মূল ও সামাজিক অপরাধ দমনে তাদের অগ্রণী ভূমিকার কোন বিকল্প নেই। তাদের সাফল্যগাঁথা গল্প এখানে এসে বলতে পেরে তারা অনেকটা গর্ববোধ করেন। তাদের সেই বীরত্বপূর্ণ কাহিনি সরাসরি শুনতে পেরে ও তাদের সঙ্গে কাজ করে আমার অসম্ভব ভালো লাগে। বিষয়টা আমি খুবই উপভোগ করি।

ছবি: পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে আরজে এমি

প্রশ্ন: ‘৯৯৯’ অনুষ্ঠানের স্মরণীয় কোন মুহুর্ত বা স্মৃতি নিয়ে কিছু বলুন...

আরজে এমি: এ ধরনের অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত অধিকাংশ ঘটনাই স্মরণীয়। তবে সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় তৃতীয় পর্বে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা- যশোরে স্ত্রী ও সন্তানকে কুপিয়ে হত্যার পর স্বামী পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা ‘৯৯৯’ এ ফোন করলে ধরা পড়ে সেই ঘাতক স্বামী। এ ঘটনার পর নিহত মেয়ের মা আমাদের অনুষ্ঠানে ফোন করে সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করেন। বিষয়ট অনেক হৃদয় বিদারক ছিলো। ওই ঘটনা প্রায়ই মনে পড়ে। এছাড়াও বেকার যুবকের আত্মহত্যা চেষ্টার পর পুলিশের উদ্ধার তৎপরতা ও তাকে কর্মসংস্থানে যুক্ত করার ঘটনাটিও বেশ স্মরণীয়।

প্রশ্ন: বর্তমান পেক্ষাপটে প্রচারণার দিক থেকে ‘৯৯৯’ অনুষ্ঠানের মূল্যায়ণটা কিভাবে করবেন?

আরজে এমি: ডিজিটাল জরুরি সেবা ৯৯৯ কার্যক্রম সরকারের প্রশংসিত একটি উদ্যোগ। বাংলাদেশের মত স্বল্পোন্নত দেশেও এ সেবাটি চালু হওয়ায় সরকার প্রশংসার দাবিদার। রেডিও পার্টনার হিসেবে পুলিশ সদস্যদের সেবা তৎপরতা প্রকাশ পাচ্ছে স্পাইস এফএমে। এর মাধ্যমে মানুষ আগের চেয়ে সেবাটি সম্পর্কে জানতে পারছে। যেকোন প্রয়োজনে তারা কল করে উপকার পাচ্ছে। এটাই আমাদের বড় সার্থকতা।

প্রশ্ন: আরজে হওয়ার শুরুর গল্পটা বলুন...

আরজে এমি: সাদী গালিব নামে আমার এক কাছের বন্ধু আমাকে ফোন করে জানান, “স্পাইস এফএমে ‘কথাবন্ধু’ বা আরজে হিসেবে অডিশন হচ্ছে। তোমার কণ্ঠ ও কথার ধরন আরজে হওয়ার জন্য উপযুক্ত। একটা চেষ্টা করে দেখতে পারো। সে আমাকে সিভি ড্রপ করতে বলল।” আমিও করলাম। আমাকে যে তারা ডাকবে এটা আমি কখনও ভাবিনি। কেননা আগে ভেবেছিলাম, পরিচিত মানুষ ছাড়া মিডিয়াতে কাজ করা যায় না। তবে যেদিন স্পাইস থেকে আমাকে ফোন করে বাছাই পর্বের জন্য কনফার্ম করা হয়, সেদিন আমি অনেক উত্তেজিত ছিলাম, অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করছিলো মনের ভেতর। এসে দুই মাসের ট্রেনিং ও ক্রিয়েটিভ প্রডিউসার যাযাবর রাসেলের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাধানে অনেক তরুণের মধ্য থেকে আরজে নির্বাচিত হলাম।

প্রশ্ন: গণমাধ্যমে কাজ করার জন্য পরিবার থেকে কতটা সমর্থন পাচ্ছেন?

আরজে এমি: শুরুতে পরিবারের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিলো। কেননা জাইক্যাতে চলমান কাজের মধ্যে এখানে কাজ করাটা তারা বেশ কঠিন হিসেবে দেখছিলো তারা। পরে যখন আমার অনুষ্ঠান ফেসুবক লাইভে দেখতে পেল, আমার কথা শুনতে পেল তখন তাদের মধ্যেও ভাল লাগা কাজ করতে লাগল। এছাড়া বেশকিছু অনুষ্ঠানের পর দর্শক ও শ্রোতাদের প্রশংসা পাওয়ায় আমার মা-বাবা আমাকে নিয়ে এখন গর্ব করেন।

উল্লেখ্য, ৯৯৯ জাতীয় জরুরি সেবার হটলাইন নম্বর। যেকোনো বিপদে পড়লে, সাইবার অপরাধের শিকার হলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে দ্রুত সেবা পাওয়া যায়। মানুষের বিপদে সহায় হিসেবে যুক্ত হওয়া নতুন এই সেবা পরিচালিত হয় প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে।



বিষয়: আরজে এমি


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top